দক্ষিণ এশিয়া

করাচির রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন করছে পাকিস্তানি প্রকৌশলীর তৈরি দুই রোবট

পাকিস্তানি প্রকৌশলীর তৈরি দুই রোবট

ইসলামাবাদ,০৮ নভেম্বর-পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচির একটি রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রোবট।

রেস্তোরাঁয় আসা গ্রাহকদের টেবিলে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে রোবট ওয়েট্রেস ‘রোবিয়া’ এবং তার সহকারী ‘জোজো’। পাকিস্তানে রেস্তোরাঁয় এ ধরনের রোবটের ব্যবহার খুব একটা দেখা না যাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশের তৈরি মানবাকৃতির রোবট নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে রেস্তোরাঁর কর্মী হিসেবে রোবটের ব্যবহার এখনো খুব বেশি দেখা যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে করাচির খাবারের জগতে প্রযুক্তির নতুন সংযোজন করেছেন পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজ।

নিয়ন আলোয় সাজানো ‘দ্য সিসিলিয়ান’ নামের রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনের কাজ করছে রোবট দুটি। গ্রাহকদের সামনে এসে ইলেকট্রনিক কণ্ঠে রোবিয়া বলে, ‘সিসিলিয়ানে স্বাগতম। আমার নাম রোবিয়া।’ এ সময় তার মাথায় থাকা লাল এলইডি চোখ জ্বলতে থাকে।

রোবিয়া ও জোজো—দুই রোবটের মাথাই গোলাকার ও সাদা। তাদের মুখের অংশে মোটরসাইকেলের হেলমেটের মতো কালো ভিসর রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক নারীদের পরা ওড়না বা দোপাট্টার আদলে তাদের গলায় কালো শালও রাখা হয়েছে।

রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজ নিজেই রোবট দুটি তৈরি করেছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিজের গবেষণাগারে তিনি রোবটগুলোর সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে আজিজ বলেন, ‘রোবট তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম এখানে সহজে পাওয়া যায় না। তাই আমাদের সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে।’

তার প্রতিষ্ঠিত রোবোটিকস প্রতিষ্ঠান কোবটের মাধ্যমে বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা কিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে রোবট দুটি তৈরি করা হয়েছে।

রেস্তোরাঁয় রোবটগুলো গ্রাহকদের টেবিল পর্যন্ত খাবার পৌঁছে দিলেও ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে হয় গ্রাহকদেরই। কেউ নিজে খাবার নামিয়ে নিতে না পারলে এ কাজে সহায়তা করেন রেস্তোরাঁর কর্মীরা।

পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে রোবট তৈরির একটি কর্মশালা রয়েছে আজিজের। ভবিষ্যতে রোবটগুলোকে আরও আধুনিক করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

আজিজ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি এবং ছবি শনাক্ত করার সক্ষমতা যুক্ত করা। এতে রোবট কাউকে দেখেই চিনতে পারবে। এমনকি আগেরবার তিনি কী খাবার অর্ডার করেছিলেন, সেটিও মনে রাখতে পারবে। সেই অনুযায়ী আরও ভালো খাবারের পরামর্শ দিতে পারবে।’

বর্তমানে রেস্তোরাঁয় আসা পরিবারগুলোর মধ্যে রোবট দুটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলোর কাজকর্ম দেখতে বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।

রেস্তোরাঁর এক গ্রাহক আহমের জামির এএফপিকে বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, রোবটটি নিজেই নিজের পরিচয় দেয়। পাশাপাশি কী কী খাবার অর্ডার করা যাবে, সে সম্পর্কেও জানায়।’

রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানিয়েছেন, রোবট যুক্ত করার পর গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে। এমনকি শহরের দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ রোবট দুটি দেখতে রেস্তোরাঁয় আসছেন।

রেস্তোরাঁর কর্মী হেলেন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা বেড়েছে। মানুষ অনেক দূর থেকে এখানে আসছেন। অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো এখানে রোবট দেখেছেন। এগুলো দেখতে সবাই বেশ উচ্ছ্বসিত।’

এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language