২০২৭ সালে এলএনজি আমদানি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ, মার্চ পর্যন্ত চূড়ান্ত হবে সূচি

ঢাকা,০৮ নভেম্বর-মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৭ সালে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
আগামী বছরের জন্য চুক্তি করা ৪০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে ২৬টি সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতারএনার্জি। অর্থাৎ চুক্তির মোট ৬৫ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অন্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্যাস পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আপাতত আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত আমদানির সূচি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুরো বছরের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত না করে মার্চ পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের সূচি তৈরির জন্য পেট্রোবাংলাকে নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এ কারণেই আপাতত নমনীয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে পরবর্তী সময়ে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাড়তি কার্গো কেনার সুযোগ থাকবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১০৩টি কার্গো পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে মোট ১২৮টি চুক্তিবদ্ধ কার্গোর মধ্যে প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ৭১টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
কাতারএনার্জির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি ট্রেডিং এলএলসি ২৪টি কার্গোর মধ্যে ১৮টি সরবরাহ করার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কাতার থেকে মোট ৪৪টি কার্গো আসার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিংয়ের (ওকিউটি) ৩২টি কার্গো সরবরাহ করার কথা থাকলেও প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি একটিও নিশ্চিত করেনি। তারা ১৬টি কার্গো সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান ব্রেন্ট সূচকভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) অনুযায়ী দাম নির্ধারণের শর্ত দিয়েছে। তবে পেট্রোবাংলা তাদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া গানভর ইউএসএ ২০২৭ সালে ছয়টি এবং ফ্রান্সের টোটালএনার্জিস ১২টি এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলেরেট গ্যাসের নির্ধারিত ১৪টি কার্গোর মধ্যে নয়টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশকে এখন স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে সরকারের আর্থিক চাপও বাড়ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই এলএনজি খাতে ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে আমদানি পরিকল্পনা নতুন করে নির্ধারণ করবে পেট্রোবাংলা।
এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







