পাকিস্তানে চরমপন্থীদের ভয়ে নীরব ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অধিকারকর্মীরা: পল ভাট্টি

ইসলামাবাদ,০১ নভেম্বর-পাকিস্তানে চরমপন্থীদের প্রভাব বাড়তে থাকায় দেশটির ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা চরম ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে উগ্রবাদীদের হামলার আশঙ্কায় মানবাধিকারকর্মী ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা নীরব হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে এ কথা তুলে ধরেছেন ২০১১ সালে তালেবানের হাতে নিহত পাকিস্তানের তৎকালীন সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টির ভাই পল ভাট্টি।
সম্প্রতি ক্যাথলিক দাতব্য সংস্থা ‘এইড টু দ্য চার্চ ইন নিড’ (এসিএন) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পল ভাট্টি এসব কথা জানান।
পল ভাট্টি বলেন, ২০১১ সালে তার ভাই শাহবাজ ভাট্টি নিহত হওয়ার পর থেকে চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ভয়ে অধিকারকর্মীরা ধীরে ধীরে নীরব হয়ে গেছেন। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে ধর্ম অবমাননা আইনের অপব্যবহার, জোর করে ধর্মান্তর, অপহরণ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পল ভাট্টি বলেন, পাকিস্তানে ইসলামি চরমপন্থীদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এর ফলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন।
বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সংসদীয় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন পল ভাট্টি। তার মতে, পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি অথবা মানবাধিকারবিষয়ক যৌথ কমিটির নেতৃত্বে এই তদন্ত পরিচালনা করা উচিত।
২০০৮ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান শাহবাজ ভাট্টি। ২০০৯ সালের গোজরা দাঙ্গায় খ্রিস্টানরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সে সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আসিয়া বিবি নামে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আসিয়ার মুক্তির পক্ষে কথা বলায় ২০১১ সালে পাকিস্তানি তালেবান শাহবাজ ভাট্টিকে হত্যা করে। পরে তার ভাই পল ভাট্টি দেশটির জাতীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।
এস এম/ ০১ নভেম্বর ২০২৬







