নতুন নেতৃত্বে টরন্টোর বেঙ্গলি ইনফরমেশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস

কানাডায় নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে অনেক অভিবাসীই বুঝে উঠতে পারেন না, প্রয়োজনের সময় কোথায় যাবেন, কার কাছে সহায়তা চাইবেন। তাঁদের সেই পথচলায় সহায়তা দিয়ে আসছে টরন্টোর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বেঙ্গলি ইনফরমেশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস বা বিআইইএস। এবার সংস্থাটির নেতৃত্বে এসেছেন ফ্যামিলি চিকিৎসক ড. নীলাঞ্জনা দত্ত।
গত ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিআইইএসের পরিচালনা পর্ষদের ৫৪তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। একই সভায় সহসভাপতি নির্বাচিত হন জাকিয়া সুলতানা এবং সাধারণ সম্পাদক হন মিজান রহমান।
টরন্টোর চিকিৎসাসেবায় পরিচিত মুখ ড. নীলাঞ্জনা দত্ত। তিনি ২০১২ সালে কানাডার ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো থেকে ফ্যামিলি মেডিসিনে রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন। সেই থেকে স্কারবরোর ম্যালভার্ন মেডিকেল সেন্টারে পারিবারিক চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়ে আসছেন তিনি। রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি যুক্ত আছেন চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গেও। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্কারবরো হেলথ নেটওয়ার্কে সম্মানসূচক ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে তাঁর।
নতুন সহসভাপতি জাকিয়া সুলতানা বাংলাদেশের একজন পরিচিত কণ্ঠশিল্পী। সংগীত ও মঞ্চ পরিবেশনায় তাঁর অভিজ্ঞতা ২৫ বছরেরও বেশি। সাধারণ সম্পাদক মিজান রহমানও টরন্টোর কমিউনিটি অঙ্গনে সুপরিচিত। বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিচালনা পর্ষদের নতুন পরিচালক নির্বাচিত হন সুব্রত নাথ ও মোছাম্মৎ আখতার। সুব্রত নাথের কাজের অভিজ্ঞতা যোগাযোগ ও বিপণন ক্ষেত্রে। মোছাম্মৎ আখতার যুক্ত রয়েছেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে।
নিজ নিজ পূর্ণ মেয়াদ শেষে দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছেন বিদায়ী সভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহতাব উদ্দিন এবং পরিচালক আলমগীর কবির। সংস্থার কাজে তাঁদের অবদান ও নিষ্ঠার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। পর্ষদের অন্য সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
‘তথ্য ভাগাভাগি, জীবনের উন্নয়ন’ স্লোগান নিয়ে কাজ করা বিআইইএসের সেবার পরিধিতে রয়েছেন নবাগত অভিবাসী, শরণার্থী, স্বল্প আয়ের পরিবার, নারী, তরুণ ও প্রবীণেরা। প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সহায়তা ও কমিউনিটি সেবার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ করিয়ে দেয় সংস্থাটি। এর উদ্দেশ্য, মানুষ যেন নিজের প্রয়োজন বুঝে উপযুক্ত সেবা নিতে পারেন এবং নতুন পরিবেশে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে পারেন।
নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার দায়িত্ব। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো, কমিউনিটির আরও মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং সেবা পাওয়া সহজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছে নবনির্বাচিত নেতৃত্ব ও পরিচালনা পর্ষদ। মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সবার জন্য সেবার সুযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়েই সংস্থাটির কাজ এগিয়ে নিতে চায় তারা।
এস এম/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







