জাতীয়

উদ্বেগজনক মোড় ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে: একদিনে প্রাণ গেল ৬ জনের

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর – বর্ষা বিদায়ের মুখেও দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোনোভাবেই স্বস্তি দিচ্ছে না। প্রতিদিন এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৮৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক তথ্য জানানো হয়। এতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার হাসপাতালভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এক নজরে ২৪ ঘণ্টার চিত্র ও এলাকাভিত্তিক পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

  • ঢাকা বিভাগ: ২ জন
  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ২ জন
  • বরিশাল বিভাগ: ১ জন
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ১ জন

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১,৮৬৪ জন নতুন রোগীর বড় একটি অংশ ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বড় শহরগুলোর ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন।

পরিসংখ্যানের বিপজ্জনক মাইলফলক: ২০০ পার মোট মৃত্যু

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে। আর আজকের ৬ জনসহ এ বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা পেরিয়ে গেছে ২০০-এর ঘর, যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে।

তবে স্বস্তির খবর এটুকুই যে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৬২ হাজার ১১৭ জন রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ছাড়া পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৭ জন।

সেপ্টেম্বরেই সবচেয়ে বড় বিপর্যয়!

মাসের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের ৯ মাসের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গু সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মাসের প্রথম ২৩ দিনেই রেকর্ড ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক!

মাসভিত্তিক মৃত্যুর চিত্র:

  • সেপ্টেম্বর (২৩ দিন পর্যন্ত): ১০৪ জন
  • আগস্ট: ৪৩ জন
  • জুলাই: ৩৬ জন
  • জুন: ১৩ জন
  • মে: ১ জন
  • জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি: ২ জন করে

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টিপাত ও জমে থাকা পরিষ্কার পানির কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রোগীর সাথে সাথে মৃত্যুর হার দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে জ্বর এলেই অবহেলা না করে প্রথম দিনেই ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1) করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি ঘরের আনাচে-কানাচে, ফুলের টব, বেলকনি বা বাড়ির ছাদ যেন ৩ দিনের বেশি পানি জমা না থাকে—সেদিকে নাগরিক সচেতনতাই পারে এই প্রাণঘাতী মহামারী থামাতে।

এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language