মুন্সিগঞ্জ

কারাবন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলের সুবিধা দিচ্ছে কারা অধিদপ্তর

কারা অধিদপ্তর

মুন্সীগঞ্জ, ৫ সেপ্টেম্বর – কারাগারে বন্দি জীবনের একাকীত্ব দূর করতে ও স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ করে দিতে বিশেষ ভিডিও কল সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে কারা অধিদপ্তর। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম শিগগিরই দেশের সব কারাগারে সম্প্রসারণ করা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজতি ও কয়েদিরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ১০ মিনিট ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। ঢাকা কারা অধিদপ্তরের লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া শাখার জেলার মো. মাসুদ হাসান জুয়েল জানান, বন্দিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করেই এই আধুনিক ও মানবিক সুবিধাটি চালু করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বন্দিদের শুধু আটকে রাখা নয়, বরং তাদের সংশোধন ও পুনর্বাসনে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের কারাগারগুলোতে নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানসিক উন্নয়নের জন্য কাউন্সেলিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বন্দিদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন উৎপাদনশীল কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ২ এ বর্তমানে সাবান তৈরির কাজ চলছে, যা বন্দি ও স্টাফদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আধুনিক রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত ও দ্রুত উপায়ে রুটি প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে।

বন্দিদের জন্য পোশাক, জুতা স্যান্ডেল তৈরি এবং বেকারির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কেরানীগঞ্জে নতুন কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণ ও অধিদপ্তরের নিজস্ব প্যাথলজি ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫৫ জন নতুন নার্স নিয়োগের মাধ্যমে কারাগারগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কারাগারে মিনারেল ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কল্যাণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের জন্য আজীবন রেশনের বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।

মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন বসানো হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও খুলনার নতুন কারাগারে ১৮ হাজার চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কারাগারকে একটি নিরাপদ ও মানবিক সংশোধন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষে কাজ করছে কারা কর্তৃপক্ষ।

এস এম/ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button