উত্তর আমেরিকা

ইরানের ব্যাংকিং খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটন, ৩১ আগস্ট – ইরানকে কাবু করতে অব্যাহত হুমকির মধ্যেই দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে তেহরানের আরও একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় রবিবার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে তিনি ব্যাংকটির নাম প্রকাশ করেননি। ইরানের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখার অভিযোগে মিশরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক ব্যাংক মিসর এর সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখাটিকে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানা গেল।

সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, প্রয়োজন হলে তারা আর্থিক সহিংসতার পথই বেছে নেবেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তারা জানেন এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং এগুলো অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। রয়টার্সের সাথে আরেক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ডলার ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতে পারে।

নর্থ ক্যারোলিনার অ্যাশভিলে জি ২০ জোটের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহেই এমন আরও পদক্ষেপ দেখা যাবে। ব্যাংকগুলোকে দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং তাদের সতর্ক করা হচ্ছে যে ইরানি শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা করা গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট।

গত সপ্তাহে ট্রেজারি বিভাগ প্রায় ৬০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এরা এমন সব নেটওয়ার্কের অংশ যা ইরানকে তেল থেকে আয় করতে, অস্ত্র সংগ্রহ করতে এবং সাইবার কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে।

দেশটির অর্থ ও অর্থনৈতিক বিষয়কমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ব্যর্থ হবে। জুলাইয়ের শেষের পর রবিবার সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যখন দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

বেসেন্ট জি ২০ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে চীনের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলবেন। তেহরানের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার দায়ে বেইজিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সব বিকল্প খোলা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে চীনের সাথে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর বিষয়টি তিনি নাকচ করে দেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী সচল রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত।

এস এম/ ৩১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language