মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের চাপে ইরানের অর্থনীতি: স্বাবলম্বী হওয়ার ঘোষণা

তেহরান, ২৭ আগস্ট – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে ইরানের জাতীয় অর্থনীতি। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃঢ় বার্তা দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে সাধারণ মানুষকে চরম আর্থিক টানাপোড়েন ও জীবনযাত্রার কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের নীতির জবাবে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্ব এখন আর একক মার্কিন আধিপত্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। তেহরান নিজস্ব কৌশলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের অর্থনীতি মন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ সম্প্রতি দুই বছর মেয়াদী একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার অভিজ্ঞতা ইরানের রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেমমাতি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তেল রফতানি প্রায় বন্ধ থাকলেও জরুরি পণ্য আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনা মজুত রয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস বড় সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি পরিষেবা রেশনের আওতায় নিয়ে এসেছে। ইরানের খোলা বাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমে ২০.৫ লাখে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দারিদ্র্যের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি দেশের তরুণ প্রজন্মকে উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। খাদ্য চাহিদা মেটাতে কৃষি মন্ত্রণালয় ৯০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তীব্র পানি সংকট ও গম বা ভোজ্যতেলের মতো পণ্যে বিদেশের ওপর নির্ভরতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশীয়ভাবে তৈরির দাবি করা হলেও বাজারে অন্তত ১ হাজার পদের ওষুধের তীব্র সংকট রয়েছে। এছাড়া ভর্তুকি কমানোর ফলে ওষুধের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার মতো বড় বিপর্যয় এড়াতে সরকারকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬









