হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া

তেহরান, ২৬ আগস্ট – হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের মজুদ আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এটি গত ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দর। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত বিশ্বে অপরিশোধিত তেলের মোট মজুদ ছিল ৩৪৫ কোটি ব্যারেল। ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এই মজুদের পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দেশভিত্তিক হিসেবে জাপানে ১৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ এবং চীনে ৫ শতাংশ মজুদ কমেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে চীন তেলজাত পণ্যের রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই মাসের শেষ দিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা গতি ফিরেছিল। তবে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের উদ্যোগ নেয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি আবার ধীর হয়ে পড়ে।
জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কেন কোয়ামা জানান, সরবরাহের এই ঘাটতি মেটাতে বিভিন্ন দেশ তাদের সংরক্ষিত মজুদ ব্যবহার করছে। এতে করে বৈশ্বিক মজুদের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি প্রশাসনের তথ্য মতে, গত ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির তেল রফতানি দৈনিক ৩০৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের বাজার আরও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ২৬ আগস্ট ২০২৬









