মধ্যপ্রাচ্য

আইআরজিসির নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আহমদ ওয়াহিদি

তেহরান, ২৭ আগস্ট – ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত হয়েছেন আহমদ ওয়াহিদি। ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পরবর্তী উত্তাল সময়ে আইআরজিসিতে যোগ দেওয়া ওয়াহিদি বর্তমানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন

। গত মার্চ মাস থেকে তিনি এই বাহিনীর কার্যনির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আহমদ ওয়াহিদির দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ার নানা চড়াই-উতরাই ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে ভরপুর।

১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি প্রধান এবং ১৯৮৮ সালে কুদস ফোর্সের প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদেশের মাটিতে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত কুদস ফোর্সের প্রাথমিক ভিত্তি ওয়াহিদির আমলেই তৈরি হয়।

বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহর গঠন প্রক্রিয়ায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে কাসেম সোলাইমানির নেতৃত্বে এই বাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করলেও এর মূল কারিগর হিসেবে ওয়াহিদির অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৯ সালে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সময় ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকা অবস্থায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ার নজির স্থাপন করেন তিনি।

এছাড়া ২০২১ সালে ইব্রাহিম রাইসি সরকারের অধীনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তবে তার এই দীর্ঘ কর্মজীবন সবসময় বিতর্কমুক্ত ছিল না। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে হামলার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তার অবস্থান ছিল অবিচল। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ওয়াহিদি সবসময়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০১২ সালে ফাতাহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাভার-৩৭৩ তৈরির প্রক্রিয়ায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

এছাড়া ১৯৮০-এর দশকে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অস্ত্র চুক্তি বা ইরান-কনট্রা অ্যাফেয়ারের ক্ষেত্রেও তার কৌশলগত নমনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ২০২২ সালের মাহসা আমিনী কেন্দ্রিক আন্দোলন দমনেও তিনি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।

বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হোরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বজায় রাখা এবং মার্কিন চাপ মোকাবিলায় আহমদ ওয়াহিদির মতো অভিজ্ঞ সমরবিদকে আইআরজিসির নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল একজন ব্যক্তির পদায়ন নয় বরং এটি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।

এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language