মধ্যপ্রাচ্য

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা কমাতে তেহরান সফরে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

দোহা, ২৭ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে আবারও কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করতে তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। বৃহস্পতিবার তার এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সফরে তিনি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো, সংলাপের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়েছেন, আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাতার সবসময় কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়।

এই সফরের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে এই জলপথে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতায় কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তানও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

কাতার এর আগেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতেও কাতার ভূমিকা রেখেছিল, যদিও হরমুজ প্রণালি বিষয়ক মতপার্থক্যের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক যাতায়াত স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমান নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, একটি অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান ও ওমানের জলসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এতে কোনো সামরিক জাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।

তেহরান স্পষ্ট করেছে যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জুনের সমঝোতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড়ার বিষয়গুলোকে ইরান শর্ত হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল কার্যকর হচ্ছে, তাই তিনি আলোচনায় বসার বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না।

এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংলাপের পথ উন্মুক্ত করাই হবে এই সফরের মূল চ্যালেঞ্জ।

এস এম/ ২৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language