মার্কিন আগ্রাসনে বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি বাড়ছে: ইরান

তেহরান, ২৩ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রভাবে বিশ্বের অনেক দেশ এখন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মোহসেন রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আচরণ অনেক দেশকে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর সদস্যপদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি কোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে পারছে না।
এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইরানের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প যে অবিবেচক পরিচয় দিয়েছেন, তা পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দিয়েছে। কোনো দেশ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর অংশ হওয়ার পরও যদি সামরিক দিক থেকে অনিরাপদ বোধ করে, তবে তারা আত্মরক্ষার্থে পারমাণবিক পথের দিকেই ঝুঁকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে এই নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আমেরিকানরা আলোচনা ও কূটনীতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এমনকি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকও তারা লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আস্থার সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।
এর ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগে তাদের কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে হিসাব নিকাশ করবে। রেজাই আরও ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের অভিজ্ঞতার পর ইরানের সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, আলোচনার ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংস্কার আনতে তেহরান কাজ করছে। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সবসময়ই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। রেজাইয়ের এই সর্বশেষ বক্তব্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
এস এম/ ২৩ আগস্ট ২০২৬









