ইউরোপ

ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ: যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছে ব্যাখ্যা চায় রাশিয়া

মস্কো, ১৬ আগস্ট – ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহ এবং তুরস্কের মাধ্যমে তা ইউক্রেন পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনার খবর পাওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। মস্কোর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক যদি এই বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা না দেয়, তবে দেশ দুটির সাথে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

বিবৃতিতে জাখারোভা উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সূত্রে তারা জানতে পেরেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক সরঞ্জামের চালান প্রথমে তুরস্কের বন্দরে আসবে এবং সেখান থেকে তা ইউক্রেনে পাঠানো হবে। এই গোপন চালানের বিষয়ে ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারার স্পষ্ট অবস্থান দাবি করেছে মস্কো। অন্যথায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনী বেশ কিছুদিন ধরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে ভুগছে। সম্প্রতি জেলেনস্কি নতুন অস্ত্র সহায়তার উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন সফর করেন। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনকে আর অস্ত্র সহায়তা না করার বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা তুরস্কও আগে জানিয়েছিল যে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যা যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধি করে।

এদিকে সম্প্রতি রাশিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় সামারা প্রদেশে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সামারা প্রদেশেই রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রোসকসমসের প্রধান দপ্তর অবস্থিত। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানান, রোসকসমসের স্থাপনা লক্ষ্য করে সফল হামলা চালানো হয়েছে এবং এই হামলায় মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লেমিঙ্গো ব্যবহার করা হয়েছে।

এনএন/ ১৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language