ইউরোপ

ফ্রান্সে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল আদালত

প্যারিস, ১৫ আগস্ট – ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে গৃহীত একটি বিল আটকে দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। আদালত জানিয়েছে, এই বিলটি নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি নিশ্চয়তা দিতেও এটি ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার ফ্রান্সের শীর্ষ আদালত কনস্টিটিউশনাল কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার ফলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই সরকারকে বিলটি নতুন করে তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

সংসদে পাস হওয়া এই বিলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছিল। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে ইতোমধ্যেই খোলা অ্যাকাউন্টগুলো চার মাসের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।

পাশাপাশি ফ্রান্সের তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালুর বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছিল। তবে আদালত বলেছে, বয়স প্রমাণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোন শর্তে বা কতটুকু তথ্য জমা দেওয়া হবে তা বিলে স্পষ্ট করা হয়নি।

সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে বিতর্কিত এই বিধানটি একদিকে মাত্রাতিরিক্তভাবে মতপ্রকাশ ও যোগাযোগের স্বাধীনতা খর্ব করেছে এবং অন্যদিকে ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষায় সঠিক আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি। উল্লেখ্য গত জুলাইয়ে ফরাসি আইনপ্রণেতারা এই বিলটি পাস করেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়াকে অনুসরণ করে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স এই পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল। এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেইসবুক, টিকটক ও ইউটিউব ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ফ্রান্স ছাড়াও চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের মতো দেশগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে যে ২০২৭ সালের পরবর্তী নির্বাচনের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সংশোধন আনতে ইমানুয়েল মাক্রোঁ বদ্ধপরিকর। যদিও সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি নিজে আর তৃতীয় মেয়াদে লড়তে পারবেন না।

এস এম/ ১৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language