ন্যাটো ও ইইউ ধ্বংসের নেপথ্যে পুতিনের গোপন ছক, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মস্কো, ১৫ আগস্ট – ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ভেতর থেকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য একটি গোপন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ক্রেমলিনের একটি গোপন বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বয়ং দেশটির সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এই লক্ষ্যে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া মূলত দ্বিমুখী কৌশল অনুসরণ করছে। তাদের প্রথম লক্ষ্য হলো ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কতটুকু তা পরীক্ষা করা।
দ্বিতীয়ত, তারা মলদোভার রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক স্থিতিশীলতা নস্যাৎ করতে চায়। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছরের শরৎকালেই এই সংকটের রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। এই সময়ে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নাশকতা এবং ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনের পর পুতিনের প্রধান লক্ষ্য হলো মলদোভা নিয়ন্ত্রণ করা। দক্ষিণ ইউক্রেন দখল করে রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে মলদোভা পর্যন্ত একটি করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছে মস্কো। এটি বাস্তবায়িত হলে ন্যাটোভুক্ত রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে থাকা ২৪ লাখ জনসংখ্যার দেশ মলদোভা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়বে।
বর্তমানে মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল ট্রান্সনিস্ট্রিয়ায় রুশ সেনাদের উপস্থিতি এই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি দেশটিতে হাইব্রিড যুদ্ধও চলছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে রুশ হামলার ফলে মলদোভায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
জার্মানির প্রতিরক্ষাপ্রধান জেনারেল কারস্টেন ব্রেউয়ার জানিয়েছেন, ইউরোপের পূর্ব প্রান্তে প্রতিদিনই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মূলত ন্যাটোর ভেতরে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই এই পুরো পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
এস এম/ ১৫ আগস্ট ২০২৬









