চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের তথ্য চুরির অভিযোগ, তবে জিনপিংয়ের সফরের প্রস্তুতি অব্যাহত

ওয়াশিংটন, ১৮ জুলাই – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তথ্য চুরির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, চীনা সরকার ২০২০ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তথ্যভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।
ট্রাম্পের মতে, বেইজিংয়ের নীতির বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণেই তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এমন গুরুতর অভিযোগের মাঝেও হোয়াইট হাউস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন ওয়াশিংটন সফরের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই রাষ্ট্রীয় সফরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্তের বিষয়ে ট্রাম্প মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার প্রথম মেয়াদের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চীনের এই তৎপরতার খবর তার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।
এ ঘটনায় চারটি ফেডারেল সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, যারা তথ্য গোপনের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নির্বাচনী তথ্য চুরির অভিযোগ আনলেও চীনের বিরুদ্ধে আপাতত কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেননি তিনি।
অন্যদিকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যখন আবার বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করবে, তখন উত্তর আমেরিকার সহ আয়োজকদের পরিবর্তে চীনের সাথে যৌথভাবে এটি করা যেতে পারে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দেওয়া এই ধারণাটি খেলোয়াড়দের যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনবে বলে তিনি মনে করেন। মজার ব্যাপার হলো, এই অনুষ্ঠানে তিনি বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির কোনো উল্লেখ করেননি। ট্রাম্পের এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাই চীনের দীর্ঘদিনের নীতি। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কোনো আগ্রহ বেইজিংয়ের নেই।
সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু গোয়েন্দা নথিতে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার কথা উল্লেখ থাকলেও নির্বাচনী ফলাফল পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটন ও বেইজিং বর্তমানে তাদের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এস এম/ ১৮ জুলাই ২০২৬









