কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা, ভূপাতিত ড্রোনের দাবি

তেহরান, ১৬ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও দেশটির সেনাবাহিনী।
একই সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এমকিউ ৯ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর সি র্যাম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার এবং মার্কিন সেনাবহরের একটি সমাবেশস্থল লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করার ঘটনাটিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে মার্কিন নৈশকালীন হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছে তেহরান।
তবে পাকদাশত এলাকায় ইরানের ভেতরে ক্ষয়ক্ষতির খবরকে অপপ্রচার বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, সেখানে বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা গেছে তা ছিল মূলত ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তার আওয়াজ। একই সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থেও বড় ধরনের আঘাত হেনেছে তেহরান।
ইরান সেনাবাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের আল আজরাক বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর একটি স্থায়ী রাডার স্টেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে একঝাঁক আত্মঘাতী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের ইরানশাহর এলাকায় একটি সেনা ব্যারাকে মার্কিন বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই ড্রোন অপারেশন চালানো হয়। এছাড়া সেমনান বিমানবন্দর এবং তেহরানের দক্ষিণ পশ্চিমে খোন্দাব শহরের কাছেও মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেমনানের আবাসিক এলাকাগুলো নিরাপদ রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহেবি এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলেন, ইরানি সামরিক বাহিনীর বর্তমান লক্ষ্য হচ্ছে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর সমস্ত আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, শত্রুপক্ষ যেন কোনোভাবেই মনে না করে তারা এই যুদ্ধকে তাদের সুবিধাজনক দীর্ঘমেয়াদি রূপ দিতে পারবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে নতুন দফায় সফল বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। বুধবার রাতভর বন্দর আব্বাস, রাসক, কোনারাক, আহভাজ এবং কেশম দ্বীপের আশেপাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬









