মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিন বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

তেহরান, ১৬ জুলাই – ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে পৌঁছেছে যা আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবারও তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারা বজায় ছিল। মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া জানান, উত্তেজনার কারণে বাজারে তেল ক্রয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আশঙ্কা করেন, সংঘাত তীব্র হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে বাধা সৃষ্টি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে। গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে বছরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে সংঘাত প্রশমিত হলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এদিকে মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত প্রত্যাশার চেয়ে কিছুটা কম কমেছে।

এস এম/ ১৬ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language