উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী

ওয়াশিংটন, ২৯ জুন – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সোমবার জ্বালানি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সোমবার প্রায় ০.৯ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় যে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল আগের অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।

সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে আগস্ট মাসের জন্য ব্রেন্ট ফিউচারের দাম দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৭৩.২১ ডলারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার আগের তুলনায় এই দাম ১.২৭ ডলার বেশি।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিভিত্তিক বাজার বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ বলেন, যুদ্ধবিরতির আশাবাদে বাজার হয়তো কিছুটা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল এবং এখনকার দাম বৃদ্ধি সেই অতিরিক্ত আশাবাদের সংশোধন। তিনি বলেন, যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি প্রায় পুরোপুরি কমে গিয়েছিল যদিও সমঝোতা স্মারকে বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিষয় স্পষ্ট ছিল না।

বৃহস্পতিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ছিল বড় সতর্কবার্তা এবং সপ্তাহান্তের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত। শান্তিপূর্ণ সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা গত শুক্র ও শনিবার পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান হামলা বন্ধ করে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই পক্ষের মধ্যে এই আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তেলের বাজারে অস্থিরতার পাশাপাশি এশিয়ার শেয়ারবাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫ কমেছে ০.৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বেশি চাপ দেখা গেছে।

জাপানের সফটব্যাংকের শেয়ার প্রায় ৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৫ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে।

এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language