জাতীয়

আগামী অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা কাল

ঢাকা, ২৯ জুন – আগামী মঙ্গলবার নতুন অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই মুদ্রানীতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাধারণত সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বছরে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে বাজারে অর্থের প্রবাহ ও সরবরাহ কেমন হবে, তার রূপরেখা থাকে এই মুদ্রানীতিতে।

এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গতিশীল রাখার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাস অন্তর এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ঘোষণাটি হবে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য।

উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিদায়ী অর্থবছরের শেষার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সেই সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিসুদ হার ১০ শতাংশ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিসুদ হার বাড়াতে শুরু করলেও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল।

তবে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় গৃহীত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির প্রভাবে আগস্ট থেকেই মূল্যস্ফীতি ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার উদ্দেশ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি সামাল দেওয়া এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোই হবে নতুন মুদ্রানীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

এদিকে উচ্চ মাত্রার খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কমিটি আমানত ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান বা স্প্রেড সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

এস এম/ ২৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language