ইউরোপ

বাজেট নিয়ে দ্বন্দ্বে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির পদত্যাগ

লন্ডন, ১১ জুন – যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাথে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

জন হিলি অভিযোগ করেছেন যে,

বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় অর্থায়নে যথেষ্ট সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই চিঠিতে জন হিলি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং হুমকি ক্রমাগত বাড়ছে।

এই অবস্থায় দেশকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় যে ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে সরকার সক্ষম হয়নি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিগত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত আলোচনা চলছিল। তবে গত বছর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনাগুলো এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নীতি পরিবর্তন নিয়ে সংশয় বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের সামরিক খাতে বিনিয়োগের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকা একটি বড় সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

ইউক্রেন সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যুক্তরাজ্যের ওপর সামরিক বাজেট বাড়ানোর চাপ বাড়ছে। তবে দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতির কারণে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে সরকার ও প্রতিরক্ষা বিভাগের মধ্যে এই টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

এস এম/ ১১ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language