ইউরোপ

রুশ সেনাদের মৃত্যু ভাতা হাতিয়ে নিতে ‘ব্ল্যাক উইডো’ চক্রের সক্রিয়তা

মস্কো, ৬ আগস্ট – ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে রাশিয়ায় এক নতুন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী কিছু নারী ‘ব্ল্যাক উইডো’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন যারা মূলত সেনাবাহিনীতে সদ্য যোগ দেওয়া বা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা পুরুষদের টার্গেট করছেন।

এসব নারী পুরুষদের বিয়ে করে পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুর পর সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ হাতিয়ে নিচ্ছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসিন্দা মারিয়া নামের এক নারী এমনই এক ঘটনার অভিযোগ তুলেছেন। তার বাবা ইউরি ৫৯ বছর বয়সে গোপনে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার মাত্র দুদিন আগে বিয়ে করেন।

মারিয়া জানান যে পরিবারের কেউই এই বিয়ের কথা জানতেন না। বাবার মৃত্যুর পর তিনি জানতে পারেন যে তার বাবার নতুন স্ত্রীই এখন আইনিভাবে নিকটাত্মীয় হিসেবে গণ্য হচ্ছেন এবং সরকারের দেওয়া মৃত্যু ভাতার পুরো অর্থ তিনিই পাবেন। রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত কোনো সেনাসদস্যের পরিবারকে প্রায় ৫০ লাখ রুবল ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় এক কোটি টাকার কাছাকাছি।

সেনাসদস্যদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখন তা প্রতারক চক্রের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। কোথাও তড়িঘড়ি করে বিয়ে আবার কোথাও হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় থাকা সেনাসদস্যকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে।

গত বছর এক নার্সকে একই ধরনের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছিল। রাশিয়ার সংসদ সদস্য লিওনিদ স্লুতস্কি এই পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে যুদ্ধে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের পরিবারকে এই ধরনের প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গণমাধ্যমের তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুপরিকল্পিতভাবে এসব কাজ করা হচ্ছে। দূরপ্রাচ্যের প্রিমোরস্কি ক্রাই অঞ্চলে কিছু সামরিক সদস্য এমনকি অসহায় পুরুষদের বিয়ের ব্যবস্থা করে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাতেন যাতে পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগাভাগি করা যায়। মারিয়ার দাবি অনুযায়ী তার বাবা শুধু আর্থিক প্রতারণার শিকারই হননি বরং তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টটিও হারিয়েছেন।

এস এম/ ৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button