ইউরোপ

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মীদের আত্মহত্যা ও বুলিংয়ের অভিযোগে তদন্ত

প্যারিস, ৫ আগস্ট – ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তরগুলোতে একের পর এক আত্মহত্যা এবং আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্মপরিবেশে মানসিক নির্যাতন ও বুলিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর প্যারিস পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ দপ্তরে দুইজন কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেছেন এবং দুইজন আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়া একজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

প্যারিস প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী এবং ৫০টি বিভাগ নিয়ে গঠিত এই বিশাল প্রশাসনিক কাঠামোতে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের কর্মী ছিলেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে লরা নামের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। এক পথচারীর সাহসিকতায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং পরে কর্মস্থলে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেন।

লরার আইনজীবীর দাবি, তাকে দপ্তরে একঘরে করে রাখা হয়েছিল এবং এমনকি সাংগঠনিক তালিকা থেকেও তার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। এর আগে গত অক্টোবরে এক নারী কর্মকর্তা অফিসেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে একজন প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিজ বাড়িতে প্রাণ হারান।

মে মাসে ৫৯ বছর বয়সী এক কর্মকর্তা ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। এছাড়া এপ্রিলে এক তরুণ কর্মকর্তার মরদেহ শৌচাগার থেকে উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আমলে ঘন ঘন রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নেতৃত্বের রদবদল কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে প্রশাসনিক ও আর্থিক সেবা অধিদপ্তর কিছু অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এস এম/ ৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button