হেলিকপ্টার ভূপাতিতের জেরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা

তেহরান, ১০ জুন – হরমুজ প্রণালিতে একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার অভিযোগ তুলে ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে এই হামলা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা সমানুপাতিক জবাব দিয়েছে।
হামলার পর ইরানের পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী বিভিন্ন অঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
গতকাল সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তাদের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানি সেনারা হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে যা ওমান উপসাগরে গিয়ে পড়েছে।
পরবর্তীতে জানা যায়, ইরানি সেনারা শাহিদ ড্রোন ব্যবহার করে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ওই হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করে। তবে তারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে হেলিকপ্টারটিকে টার্গেট করেছিল নাকি ভুলক্রমে ড্রোন হেলিকপ্টারে আঘাত হেনেছে সেটি নিশ্চিত নয়।
হেলিকপ্টারটিতে দুজন ক্রু ছিলেন যারা সমুদ্রে পড়ে যান। পরবর্তীতে সামুদ্রিক ড্রোন পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। ড্রোন ব্যবহার করে সেনাদের উদ্ধারের এটিই প্রথম ঘটনা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে জানান, হেলিকপ্টারের দুই পাইলট সুস্থ আছেন। তিনি বলেন, হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে যার জবাব দেওয়া হবে। তার এমন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানি উপকূল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের ওপর চালানো নতুন হামলায় টার্গেট করা হয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাকে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে তাদের পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী বন্দর আব্বাস, কিশ এবং সিরিকে বিস্ফোরণ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুমকি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে হামলা চালিয়েছে সেটির জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের পরও যুক্তরাষ্ট্র তাদের দৃঢ় সংকল্পকে পরীক্ষা করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনএন/ ১০ জুন ২০২৬









