পুতিন-জেলেনস্কি সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবে ইউরোপীয় তিন শক্তির সমর্থন

লন্ডন, ৮ জুন – রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছর পার হওয়ার পর সংঘাত নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
গতকাল রবিবার লন্ডনে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা বৈঠক শেষে তিন দেশের শীর্ষ নেতারা এই সরাসরি সংলাপের প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের অবস্থান জানান। তবে ক্রেমলিন তাৎক্ষণিকভাবে এই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং পরবর্তী শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংলাপ প্রয়োজন। বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, শান্তি আলোচনার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে যুদ্ধের বর্তমান নিয়ন্ত্রণ রেখাকে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কোনো সীমান্ত জোরপূর্বক পরিবর্তন করা যাবে না। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। পুতিন সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে জানান যে, শান্তিচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের বৈঠকের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এই পরিস্থিতিতে পুতিনের কাছে নিজের কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে ভিন্ন কূটনৈতিক কৌশল নিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট। তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে জানান যে, পুতিনের কাছে বার্তা পাঠাতে তিনি কিয়েভে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, ক্রেমলিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে আব্রামোভিচ বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন। আব্রামোভিচের মাধ্যমে জেলেনস্কি পুতিনকে এই বার্তা দেন যে, ইউক্রেনীয়রা তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড ছেড়ে যাবে না এবং রাশিয়ার কোনো বিজয় অর্জন হতে দেবে না।
বর্তমানে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আকাশসীমা সুরক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও সামরিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে কিয়েভ। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে জেলেনস্কি এখন বহুমুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এস এম/ ৮ জুন ২০২৬








