রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলায় ব্রিটিশ ড্রোন: যুক্তরাজ্যকে চরম পরিণতির হুমকি মস্কোর

মস্কো, ১৯ আগস্ট – রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মস্কো। এসব হামলায় যুক্তরাজ্যের তৈরি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দেশটিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনকে ড্রোন সরবরাহের কারণে যুক্তরাজ্যকে এর বড় ধরনের পরিণাম ভোগ করতে হবে এবং এই উসকানির জন্য তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রেরিত টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয় যে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। রাশিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, শান্তির কথা বললেও যুক্তরাজ্য মূলত সন্ত্রাসী হামলার সহযোগী হিসেবে নেপথ্যে ভূমিকা রাখছে।
সাবেক রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই ফেদোরভ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান যে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে যুক্তরাজ্যে সরাসরি হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন তেল শোধনাগার এবং সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলা বৃদ্ধি করেছে।
মস্কোর মেয়রের দেওয়া তথ্যমতে, ইউক্রেন অন্তত ৬৩৭টি ড্রোন ছুড়েছে যার বড় একটি অংশ রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দ্য টাইমস পত্রিকার একটি তদন্তে উঠে এসেছে যে, এসব হামলায় ব্রিটিশ বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত এপ্রিল মাসেও ইউক্রেনের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার ড্রোনের একটি বিশাল সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল যুক্তরাজ্য।
রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া যদি যুক্তরাজ্যের ওপর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে তবে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো হয়তো বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। আন্দ্রেই ফেদোরভ মনে করেন, ন্যাটো হয়তো কেবল মৌখিক বিবৃতির মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখবে। এই পরিস্থিতিতে দেশ দুটির মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এস এম/ ১৯ আগস্ট ২০২৬








