এরদোয়ানের আপত্তিতে পণ্ড ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন সরকার পরিবর্তনের গোপন পরিকল্পনা

আঙ্কারা, ১৭ আগস্ট – ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার লক্ষ্যে দেশটির পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধাকে তেহরানের অভিমুখে পাঠানোর একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের তীব্র আপত্তি ও সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকার পতনের রূপরেখা তুলে ধরেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, নেতানিয়াহু এমন এক পরিস্থিতি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেখানে ইরানের সাধারণ জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করার সুযোগ পাবে। এই পরিকল্পনার মূল অংশ ছিল ইরাকের কুর্দিস্তান থেকে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের ইরানে প্রবেশ করানো।
মার্কিন বিমান বাহিনীর সুরক্ষায় এসব যোদ্ধারা পশ্চিম ইরানে প্রবেশ করে বিদ্রোহ উসকে দেবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের তৈরি এই পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।
তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এ ধরনের অভিযান তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এরদোয়ান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সাফ জানিয়ে দেন যে, এই অঞ্চলে কুর্দিদের কোনো ধরনের স্বাধীনতা বা সশস্ত্র কর্মকাণ্ড আঙ্কারা বরদাস্ত করবে না।
দীর্ঘ সময় ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত তুরস্কের আশঙ্কা ছিল যে, ইরানে কুর্দি মিলিশিয়াদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে তা তাদের নিজস্ব সীমান্তে নতুন অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। এদিকে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেও পরিকল্পনাটি নিয়ে সংশয় ছিল।
সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে এই স্থল অভিযানের অবাস্তব দিকগুলো সম্পর্কে অবহিত করলে ট্রাম্প বিষয়টিকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে এরপরও মার্চ মাস পর্যন্ত এই পরিকল্পনা নিয়ে পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা চলে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর স্বার্থ এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে জড়াতে রাজি হয়নি। শেষপর্যন্ত সামরিক অভ্যুত্থানের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।
এস এম/ ১৭ আগস্ট ২০২৬









