জেন-জি ভোটারদের মন জয়ে মোদির নতুন কৌশল ও চ্যালেঞ্জ

দিল্লি, ২২ আগস্ট – ভারতের নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে নিজের দীর্ঘদিনের কঠোর ভাবমূর্তি পরিবর্তন করে বন্ধুসুলভ হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মন জয় করতে তিনি এখন অত্যন্ত সচেতনভাবে তৈরি করা বক্তৃতার বদলে ইনস্টাগ্রামে স্বাভাবিক ও অনানুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন।
পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচারের বাইরে গিয়ে তরুণদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা ও সেলফি ধাঁচের ভিডিওর মাধ্যমে তাদের সাথে সংযোগ স্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি মূলত সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনের পর থেকেই দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে ভারতের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ এবং ২০২৯ সালের নির্বাচনে এই জেন-জি ভোটাররাই বড় ভূমিকা রাখবেন।
তাই তাদের পছন্দের প্ল্যাটফর্ম ও ভাষায় কথা বলা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে মোদির এই নতুন প্রচেষ্টা সবসময় সফল হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই তার ভিডিওগুলো নিয়ে তরুণদের মধ্যে হাস্যরস ও বিদ্রূপ তৈরি হতে দেখা গেছে।
বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণে একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম প্রথাগত হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক প্রচারের চেয়ে ভিন্নভাবে কাজ করে। এখানে কন্টেন্ট কতটা স্বতঃস্ফূর্ত তার ওপর এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করে।
ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেখানে প্রচারণার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতে থাকছে না। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হতে হলে শুধু উপস্থিতিই যথেষ্ট নয় বরং সেখানকার ভাষা ও অলিখিত নিয়মগুলোও আয়ত্ত করা প্রয়োজন। ভারতের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিজেপি এই নতুন ডিজিটাল সংস্কৃতিতে কতটা সফল হবে তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এস এম/ ২২ আগস্ট ২০২৬









