যৌন হেনস্থার অভিযোগে দিল্লির এসিপি বিবেক ভগতের পদোন্নতি স্থগিত

দিল্লি, ০৬ অক্টোবর-যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠা দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের পদোন্নতি স্থগিত করেছে দিল্লির বিজেপি সরকার। তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছা জানিয়ে অব্যাহতি চাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর পদোন্নতি সংক্রান্ত আগের বিজ্ঞপ্তিও সংশোধন করা হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশি বাধা ও ধরপাকড়ের মধ্যেও শনিবার, রোববার ও সোমবার বিক্ষোভ চলতে থাকে।
শনিবার ওই বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক দিল্লি পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগে অভিযুক্তদের একজন ছিলেন এসিপি বিবেক ভগত। এর মধ্যেই সোমবার দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পদোন্নতি পেয়ে বিবেক অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে আরও ১১ পুলিশ কর্মকর্তারও পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল।
পরে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বিবেককে বাদ দিয়ে অন্য ১১ কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সেখানে বলা হয়, বিবেকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার আগেই বিবেকসহ ১২ কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে দিল্লির স্বরাষ্ট্র দফতরের সহকারী সচিবের স্বাক্ষর রয়েছে এবং সেটি পুলিশ কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লি সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ১২ কর্মকর্তার পদোন্নতি ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ দিলে নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব নেবেন। এই পদোন্নতির কারণে কর্মকর্তাদের বেতনও বাড়ার কথা নয় বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে বিবেক ভগতসহ যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ কথা উল্লেখ করে সেটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে বিরোধী দল, বিভিন্ন সংগঠন ও সাংবাদিকদের একাংশ অভিযুক্ত এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের প্রতিবাদে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার রাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চলে। সোমবার সকালে পুলিশ সেখানে ধরপাকড় শুরু করে। থানার সামনে থাকা কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়। অভিযোগকারী নারী সাংবাদিকও এ সময় আটক হন।
রোববার এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবিতে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভ করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, অভিযোগকারী সাংবাদিক ও তাদের আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত থাকলেও পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ দেখায়নি। পরে সৌরভ দাস ও সিপিএম নেতা বৃন্দা কারাট থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবি জানান। তবে এরপরও মামলা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সিজেপি। দলটির দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে রক্ষার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্য দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী। দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন উল্লেখ করে তিনি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করারও দাবি জানিয়েছেন। রাহুলের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনায় মামলা করা পুলিশের ন্যূনতম দায়িত্ব।
এস এম/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬







