আয়ু বাড়াতে পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলারের ‘অমরত্ব প্রকল্প’

মস্কো, ৩০ মে – মানুষের আয়ু বাড়াতে এবং বার্ধক্য রুখতে এবার বিশাল এক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন ধনকুবেরদের মতো তিনিও এখন বার্ধক্য জয় করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। তবে এটি কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয় বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অন্তত ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি মহাপ্রকল্প।
নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস নামের এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মানবকোষের বার্ধক্য রোধ করা এবং মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মেরামত করা। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ৭৩ বছর বয়সী পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উন্নত জিন থেরাপি।
রাশিয়ার উপ বিজ্ঞানমন্ত্রী দেনিস সেকিরিনস্কি একে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জিন থেরাপির পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাণীর শরীরে মানুষের অঙ্গ তৈরির গবেষণাও চলছে। রুশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে তারা ইতিমধ্যে ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি এবং মানুষের কার্টিলেজ টিস্যু তৈরিতে সফল হয়েছেন।
তারা আশাবাদী যে ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের সম্পূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে অন্তত পৌনে ২ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো যাবে বলে এক সময় পুতিন নিজেই উল্লেখ করেছিলেন। এই সংবেদনশীল গবেষণার দায়িত্বে রয়েছেন পুতিনের কন্যা এবং হরমোন বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভোরোন্তসোভা।
তার সঙ্গে কাজ করছেন প্রখ্যাত পদার্থবিদ মিখাইল কোভালচুক। মিখাইল মনে করেন যে ভবিষ্যতে মানুষ তার প্রয়োজন অনুযায়ী শরীরের অঙ্গ সারিয়ে তুলতে পারবে। তবে পুতিনের এই দীর্ঘায়ু লাভের আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। কথিত আছে যে ১৯৬৮ সালের একটি সোভিয়েট চলচ্চিত্র দেখার পর কৈশোর থেকেই পুতিনের মনে অমরত্ব ও শরীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে এক ধরনের আগ্রহ কাজ করত।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে আলাপেও তাকে ক্রায়োথেরাপি বা বরফশীতল তাপমাত্রায় চিকিৎসার সুফল নিয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। তবে এই বিপুল ব্যয়ের প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। সমালোচকদের মতে এই গবেষণার কোনো বৈজ্ঞানিক ফলাফল বা তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে পর্যালোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হয় না।
রাশিয়ার বায়োপ্রিন্টিং খাতের অন্যতম বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার অস্ত্রভস্কি জানান যে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশ না করার অর্থ হলো এই প্রকল্পের তেমন কোনো বাস্তব সাফল্য নেই। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন পুতিনকে খুশি রাখতে এবং সরকারি তহবিল নিশ্চিত করতেই বিজ্ঞানীরা তাকে এমন বড় বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুজবের মধ্যেই এই অমরত্ব প্রকল্প এখন বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এস এম/ ৩০ মে ২০২৬









