যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড প্রত্যাশীদের স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট নীতিতে সংশোধন

ওয়াশিংটন, ৩০ মে – নন ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে গ্রিনকার্ডের জন্য স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট আবেদনকারীদের নিয়ে সম্প্রতি জারি করা নির্দেশনা এক সপ্তাহের মাথায় সংশোধন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ যেসব দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত বা জটিলতার মধ্যে রয়েছে তারা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ডের সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে গ্রিনকার্ড অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইউএসসিআইএস কর্মকর্তার বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা কর্মসূচি যেমন ফুড স্ট্যাম্প বা মেডিকেয়ারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে হলে তার আবেদন বাতিল করার ক্ষমতা কর্মকর্তাদের থাকবে।
এর আগে ২২ মে জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল যে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনকারীদের গ্রিনকার্ড সাক্ষাৎকারের জন্য নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর তীব্র বিরোধিতা করে।
নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি আমেরিকান অভিবাসন আইনজীবী জান্নাতুল রুমা বলেন যে ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর নিজ দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে দেশে ফিরে গেলে তিনি নির্যাতন বা ঝুঁকির মুখে পড়বেন এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী কর্মকর্তা তাতে সন্তুষ্ট হন তবে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক আইনজীবী মঈন চৌধুরী জানান যে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের আবেদনকারীদের এখন আর দুশ্চিন্তার কারণ নেই। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে আবেদনকারী বা তার স্পন্সর যদি সরকারি আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হন তবে আবেদন বাতিল হতে পারে।
তবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অথবা দক্ষ কর্মী হিসেবে যোগ্যতা অর্জনকারীদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের পথে বড় কোনো বাধা থাকবে না। ২০২৪ সালে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে ৮ লাখ ৮২ হাজার মানুষ গ্রিনকার্ড পেয়েছেন যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন। বর্তমানে এ ধরনের আরও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এস এম/ ৩০ মে ২০২৬









