উত্তর আমেরিকা

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন দুই আদেশ

ওয়াশিংটন, ৭ আগস্ট – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের সুযোগ সীমিত করতে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে এই আদেশগুলোতে সই করার সময় ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের আগের এক সিদ্ধান্তকে দুর্ভাগ্যজনক হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি জানান যে বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি আদেশের মূল লক্ষ্য হলো বার্থ ট্যুরিজম বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা বন্ধ করা।

অন্য আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি সরকারের হয়ে লবিং করা ব্যক্তিদের সন্তানদেরও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে এখনও এই আদেশ দুটির বিস্তারিত রূপ প্রকাশ করা হয়নি।

তবে মিলার জানিয়েছেন যে বহু বছর ধরে পর্যটক পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নাগরিকত্ব লাভের এই প্রবণতা চলে আসছে। অনেকেই ডিজনিল্যান্ড বা জাতীয় উদ্যান ভ্রমণের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

পরবর্তী সময়ে এই নাগরিকত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা এবং ভোটাধিকার ভোগ করে থাকে। এর আগে ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই ট্রাম্প এই নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে একটি আদেশ দিয়েছিলেন।

তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে এই বিধানের বিরোধিতা করে আসছেন।

তার মতে এই আইনটি মূলত গৃহযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষদের সন্তানদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রণীত হয়েছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এর আগেও এই ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো সোচ্চার হয়েছিল এবং রাজপথে সাধারণ মানুষের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

এস এম/ ৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button