এশিয়া

জিনজিয়াংয়ের মরুভূমিতে চীনের বিশাল পরমাণু প্রতিরক্ষা বলয়

বেইজিং, ৩০ মে – চীনের প্রত্যন্ত জিনজিয়াং প্রদেশের মরুভূমিতে গড়ে উঠছে এক বিশাল এবং নজিরবিহীন সামরিক বলয়। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সাম্প্রতিক চিত্রগুলো বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিজেদের ভূগর্ভস্থ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষিত করতে বেইজিং সেখানে একের পর এক লঞ্চ প্যাড, বাঙ্কার এবং অত্যাধুনিক যোগাযোগ কেন্দ্র নির্মাণ করছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার সম্ভাব্য যেকোনো আকস্মিক হামলা থেকে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার রক্ষা করতেই বেইজিংয়ের এই বিশাল আয়োজন। এর মূল লক্ষ্য হলো আক্রান্ত হলেও চীন যেন নিশ্চিতভাবে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হয়। বর্তমানে চীনের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আমেরিকার যেকোনো শহরে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।

এই সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করতে তারা জিনজিয়াংয়ের হামি ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোর নিকটবর্তী এলাকায় নতুন অবকাঠামো তৈরি করছে। স্যাটেলাইট চিত্রে মরুভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অন্তত ৮০টি নতুন লঞ্চ প্যাড দেখা গেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা,

এগুলো মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হবে। একই সাথে সেখানে ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল ও স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য বিশেষ স্থাপনাও তৈরি করা হচ্ছে। এই নতুন সামরিক নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত ছয় বছরে তৈরি হওয়া দুটি বিশাল অক্টাগন বা অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা।

এই অক্টাগনগুলোর ভেতরে সেনা আবাসন এবং সামরিক যান রাখার ব্যবস্থার পাশাপাশি চারপাশ ঘিরে রয়েছে সুরক্ষিত বাঙ্কার, অস্ত্রাগার, বিমান উড্ডয়ন পথ এবং রেললাইন। অতি সম্প্রতি গত এপ্রিল ও মে মাসেও এই স্থাপনাগুলোর চারপাশে বড় বড় সামরিক যানের মহড়া এবং ছদ্মাবরণে ঢাকা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

প্রতিটি অক্টাগন থেকে শত শত কিলোমিটার বিস্তৃত মাটির রাস্তা এবং গোপন সংযোগ লাইন মরুভূমির ভেতরের কংক্রিট প্যাডগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে, যা সম্ভবত অত্যাধুনিক ফাইবার অপটিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বেইজিংয়ের পরমাণু ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

যদিও চীনের আনুষ্ঠানিক নীতি হলো তারা কখনো প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না, তবে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মুখে বেইজিং নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মরিয়া।

বিশ্বের অন্য কোনো দেশ পরমাণু সাইলো সুরক্ষায় এমন বিশাল প্রতিরক্ষা জাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আগে কখনও তৈরি করেনি। মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশে বেইজিংয়ের এই গোপন পরমাণু কর্মযজ্ঞ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এস এম/ ৩০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language