হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াল ইরান

তেহরান, ১৫ জুলাই – হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরম রূপ ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধের প্রতিবাদে গত মাসে সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে তেহরান।
এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল আবারও একটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, তারা এখন থেকে চুক্তির কোনো শর্ত মানতে আর বাধ্য নন। ইরানের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র শুধু এই চুক্তিই লঙ্ঘন করেনি, বরং ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নতুন করে অবরোধ আরোপ করে পরিস্থিতিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ওমান সংলগ্ন অংশসহ পুরো হরমুজ প্রণালির ওপর তারা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আর কোনো আলোচনায় বসার সুযোগ নেই।
গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন। যদিও শুরুতে জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের কথা ছিল, তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন ট্রাম্প। তবে বুধবার ভোর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন অবরোধ কার্যকর শুরু হয়েছে।
অবরোধ কার্যকর হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, ইরান প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর অভিমুখে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাহরাইন ও কুয়েতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে এক জটিল রূপ নিয়েছে। বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯টি যুদ্ধজাহাজ ও কয়েকশ সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথে অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ১৫ জুলাই ২০২৬









