মধ্যপ্রাচ্য

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে

তেহরান, ১৪ জুলাই – হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইরানও পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে এই হামলা শুরু করা হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বান্দার আব্বাস এবং কিশ ও কেশম দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী কয়েকটি জাহাজ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।

পাশাপাশি বান্দার আব্বাসের কাছে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ওমান উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

এদিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। তাদের দাবি, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদ গুদাম লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। এর আগে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতেও হামলার দাবি করেছিল দেশটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে সামরিক বাহিনীকে আরও ৬০ দিন মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক লড়াই চলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিনিময়ে পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ টোল আদায় করা হবে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, হরমুজ প্রণালির প্রকৃত অভিভাবক কেবল ইরানই।

সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এস এম/ ১৪ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language