দেশে ৮৭ লাখের বেশি প্রিপেইড মিটার স্থাপন, রাজস্ব বাড়াতে সরকারের বড় পদক্ষেপ

ঢাকা, ১৫ জুলাই – দেশে কারিগরি বহির্ভূত সিস্টেম লস হ্রাস ও স্বচ্ছতার সাথে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৮২৩টি প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করেছে সরকার। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দেশের সকল গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। তবে ভৌগোলিক বা কৌশলগত কারণে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্রাহককে হয়তো এই ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে না।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী দেশের পাঁচ কোটির বেশি গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন, মিটারে কারসাজি ও অবৈধ সংযোগের মতো অনিয়মের ফলে ৫ থেকে ৭ শতাংশ বিদ্যুৎ অপচয় হয়। প্রিপেইড মিটারের ব্যবহার এই সমস্যা সমাধানে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার মিটার স্থাপন করেছে বিউবো। এছাড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১৮ লাখ, ডিপিডিসি ১০ লাখ ৭৯ হাজার, ডেসকো ৯ লাখ ১৬ হাজার, ওজোপাডিকো ৯ লাখ ১২ হাজার এবং নেসকো ৯ লাখ ৩৯ হাজার মিটার স্থাপন সম্পন্ন করেছে।
বিউবোর পরিচালক মো. শামীম হাসান জানান, অবশিষ্ট মিটার স্থাপনের কাজও বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পাওয়ার সেলের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রাহক প্রতি গড় বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬১ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।
প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বিল পরিশোধের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। এতে কোনো জামানত দিতে হয় না এবং বিদ্যুৎ বিলের ওপর ২ শতাংশ ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া ভোল্টেজ ওঠানামা প্রতিরোধ এবং জরুরি ঋণ সুবিধাও প্রদান করে এই স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা।
এস এম/ ১৫ জুলাই ২০২৬









