মধ্যপ্রাচ্য

নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের কড়া প্রতিবাদ

তেহরান, ২১ মে – ইরানের ওপর চালানো সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পদ্ধতিগত লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে এই দাবি উত্থাপন করেন।

তিনি অভিযোগ করেন যে,

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক হামলার সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা পরিষদ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ইরানি রাষ্ট্রদূত তার বিবৃতিতে আগ্রাসী রাষ্ট্রগুলোর কঠোর সমালোচনা করে বলেন যে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলার ঘটনাটি তুলে ধরেন তিনি। যেখানে ১৬৮ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও স্কুল কর্মী নিহত হন। এছাড়া তিনি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে পাথর যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকির তীব্র নিন্দা জানান।

ইরাভানি বলেন যে,

একটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের সহযোগীদের ইরানি জাতির বিরুদ্ধে এই জঘন্য অপরাধের জন্য আইনি ও আন্তর্জাতিক দায়ভার গ্রহণ করতে হবে।

জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিগুলো যেমন সার্বভৌম সমতা ও শক্তির অপব্যবহার না করার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে গৃহীত সামরিক পদক্ষেপগুলোকে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ইরানি বাহিনী সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ১০০টি সফল প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

বর্তমানে ইরানের ওপর অমানবিক নৌ অবরোধ আরোপের প্রতিবাদে এবং মার্কিন প্রশাসনের অযৌক্তিক দাবির মুখে দ্বিতীয় দফার আলোচনা থেকে বিরত রয়েছে ইরান।

এস এম/ ২১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language