আবুধাবিতে মোদি-নাহিয়ান বৈঠক: ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা

নয়াদিল্লি, ১৫ মে – ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শুক্রবার (১৫ মে) আবুধাবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউএই-র প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং অবকাঠামো খাতে দুই দেশের মধ্যে একাধিক কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই সফরটি ভারতের জন্য অত্যন্ত সফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ৫ দেশ সফরের প্রথম ধাপে আবুধাবিতে পৌঁছালে তাকে রাজকীয় সম্মান জানানো হয়। এমনকি তার বিমান যখন ইউএই-র আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন দেশটির এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে তাকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরা দেওয়া হয়।
এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ ঘোষণা। ভারতের অবকাঠামো খাত, আরবিএল ব্যাংক এবং সাম্মান শহরে ৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
সফরে স্বাক্ষরিত প্রধান চুক্তিগুলো:
- প্রতিরক্ষা: কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের একটি কাঠামোগত চুক্তি।
- জ্বালানি: এলপিজি সরবরাহ চুক্তি এবং কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU)।
- অবকাঠামো: গুজরাটের ভাদিনারে জাহাজ মেরামত ক্লাস্টার প্রকল্প।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। আবুধাবির এই বৈঠক থেকে ভারতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে মোদি ইউএই প্রেসিডেন্টকে বলেন, “আমি আপনার সঙ্গে ফোনে কথা বলতাম, তবে সরাসরি সাক্ষাৎ করার জন্য খুবই আগ্রহী ছিলাম।”
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। গত ২৫ বছরে ভারত যে পরিমাণ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ পেয়েছে, তার মধ্যে সপ্তম বৃহত্তম উৎস হলো ইউএই। এছাড়া দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৪৫ লাখ ভারতীয় প্রবাসী দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এই সফরটি একটি বিশাল মাইলফলক।
এনএন/ ১৫ মে ২০২৬









