নবজাতককে চুমু খাওয়ার সময় ওই মায়েদের কথা ভাবুন! হোয়াইট হাউস মুখপাত্রকে ইরান দূতাবাসের নজিরবিহীন বার্তা

তেহরান, ১০ মে – একদিকে নতুন জীবনের আগমনী আনন্দ, অন্যদিকে শত শিশুর প্রাণহানির বিচার—এই দুই বৈপরীত্যের মাঝে দাঁড়িয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটকে এক হাত নিল ইরান। কন্যাসন্তানের মা হওয়ায় লেভিটকে অভিনন্দন জানালেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় নিহত ১৬৮ শিশুর প্রসঙ্গ টেনে কঠোর সমালোচনা করেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) নিজের দ্বিতীয় সন্তান ‘ভিভিয়ানা’র জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন ক্যারোলিন লেভিট। নবজাতককে বুকে জড়িয়ে থাকা একটি আবেগঘন ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ১ মে ভিভি তাদের পরিবারে যোগ দিয়েছে এবং তাদের হৃদয় ভালোবাসায় পূর্ণ। তবে এই আনন্দের মুহূর্তেই তেহরানের পক্ষ থেকে ধেয়ে আসে এক তীক্ষ্ণ ও হাড়কাঁপানো বার্তা।
ইরান দূতাবাসের সেই কড়া বার্তা
আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেভিটকে উদ্দেশ্য করে লেখে: “আপনাকে অভিনন্দন। শিশুরা নিষ্পাপ ও ভালোবাসার যোগ্য। আপনার বস মিনাবের স্কুলে যে ১৬৮ জন শিশুকে হত্যা করেছেন এবং আপনি যার ন্যায্যতা দিয়েছেন, তারাও শিশু ছিল। আপনি যখন আপনার শিশুকে চুম্বন করেন, তখন সেই শিশুদের মায়েদের কথা ভাবুন।”
মিনাব ট্র্যাজেডি: কী ঘটেছিল সেদিন?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানজুড়ে চালানো হামলার দিনে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আঘাত হানে শক্তিশালী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। আইআরআইবি-র তথ্যমতে, ওই হামলায় ৭৩ জন ছেলেশিশু ও ৪৭ জন মেয়েশিশুসহ মোট ১৬৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন শিক্ষক এবং স্কুলের বাসের চালকও ছিলেন।
হোয়াইট হাউসের সাফাই ও ট্রাম্পের বিভ্রান্তিকর দাবি
সে সময় ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক নাগরিক বা শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে না। বরং তিনি এই ঘটনার জন্য ইরানের শাসকগোষ্ঠীকেই দায়ী করেছিলেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন, হামলার পেছনে ইরান নিজেই দায়ী এবং ইরানের কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আছে (যদিও তা সত্য নয়)।
তবে পরবর্তীতে নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, মার্কিন সামরিক তদন্তের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ভুলের কারণে মার্কিন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি ওই স্কুলে আঘাত হেনেছিল। নিজের সন্তানের জন্মের পর লেভিটের সেই পুরোনো মন্তব্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন নতুন করে বিশ্বজুড়ে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠেছে।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬









