জাতীয়

অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা, ১০ মে – দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের স্থবিরতা কাটাতে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ছয়টি শিশু হাসপাতাল ভবন নির্মাণ হওয়ার পরও বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ নজরে আসতেই জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তিনি। কোনো অজুহাত নয়, বরং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হাসপাতালগুলো সচল করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

গত ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল— রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভবন তৈরি করা হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা কোনো কাজেই আসছে না।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য সচিবকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন যেন দ্রুত এই ছয়টি হাসপাতাল পরিদর্শন করে চালুর ব্যবস্থা করা হয়। শুধু নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি; আগামী ২ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একটি সার্বিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের আওতায় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে:

  • কুষ্টিয়া মেডিকেল: বর্তমানে আংশিক চালু থাকা ৫০০ শয্যার কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • শাহবাগ সুপার স্পেশালাইজড: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ ঢাকার অন্যান্য ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলোও দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে নীলফামারীতে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে সম্পৃক্ত করে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, রংপুর বিভাগের প্রায় ২ কোটি মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য এটি একটি ‘আঞ্চলিক রেফারেল কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করবে। উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্য ও উন্নত চিকিৎসার অভাব দূর করতে এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা হাসপাতালগুলো সচল হলে দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে স্বাস্থ্য খাতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত হবে— এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

এনএন/ ১০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language