জাতীয়

ঈদের প্রস্তুতি তুঙ্গে: রাজধানীর ২৭ স্থানে জমবে পশুর হাট!

ঢাকা, ১০ মে – পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই কোরবানির পশুর হাট নিয়ে সরগরম হতে শুরু করেছে রাজধানী। এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সর্বমোট ২৭টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১৬টি হাটে চলবে পশু কেনাবেচা। দুই সিটি করপোরেশন সূত্রেই এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তালিকায় সারুলিয়া স্থায়ী হাটটি থাকলেও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে এবার সেখানে কোরবানির হাট বসছে না। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ডিএসসিসি এলাকায় এবার ১১টি অস্থায়ী হাটে পশু বিক্রি হবে। ইতিমধ্যে ৯টি হাটের ইজারা দর সন্তোষজনক পাওয়া গেছে, বাকি দুটির জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাটগুলো যেখানে:

পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব মাঠ, রহমতগঞ্জ ক্লাব মাঠ, আমুলিয়া মডেল টাউন, শ্যামপুর-কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড, আফতাবনগর (ব্লক-ই থেকে এইচ), শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন মাঠ, মাতুয়াইল মৃধাবাড়ি পানির পাম্প এলাকা, জুরাইন রেলক্রসিং সংলগ্ন রাস্তা, বনশ্রী হাউজিং এবং গোলাপবাগ আউটার স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন খালি জায়গা।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে গাবতলী স্থায়ী হাটের পাশাপাশি আরও ১৫টি অস্থায়ী হাট বসছে। ইতিমধ্যে ৭টি হাটের ইজারা প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত।

ডিএনসিসি এলাকার অস্থায়ী হাটগুলো হলো:

মিরপুর সেকশন-৬, কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠ, মেরুল বাড্ডা, পূর্ব হাজীপাড়া ইকরা মাদ্রাসা মাঠ, বছিলা ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন এলাকা, উত্তরা দিয়াবাড়ি (সেক্টর ১৬ ও ১৮), উত্তরা রানাভোলা স্লুইসগেট এলাকা, কাঁচকুড়া বাজার, মস্তুল চেকপোস্ট, ভাটারা সুতিভোলা খাল পাড়, বনরূপা আবাসিক এলাকা, মহাখালী টিএন্ডটি মাঠ, স্বদেশ প্রপার্টি এবং বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গা।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এই হাটগুলোতে পশু বেচাকেনা চলবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে পশু হাটে আনা বা বিক্রি শুরু করলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিপুল সংখ্যক পশুর বর্জ্য অপসারণ এবং রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং নিরবচ্ছিন্ন বর্জ্য অপসারণের জন্য কয়েক হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

কোরবানির পশু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে দুই সিটি করপোরেশন।

এনএন/ ১০ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language