ইরানের ড্রোন হামলায় জ্বলল আমিরাতের তেল ডিপো: ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি

আবুধাবি, ৫ মে – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। সোমবার (৪ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র ফুজাইরা অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ ও ‘সন্ত্রাসী কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে ইরানকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমিরাত।
আমিরাতের পূর্বাঞ্চলের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ফুজাইরা এমিরেতে এই হামলা চালানো হয়। এখানে রয়েছে একাধিক তেল শোধনাগার এবং বিশাল জ্বালানি ডিপো। ফুজাইরা জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার ইরানের ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই হামলায় ৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের সবাই ভারতীয় নাগরিক। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের ক্ষত মাঝারি ধরনের এবং বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সামরিক অভিযানের বিবরণ দিয়ে জানিয়েছে, ইরান থেকে মোট ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাত লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝ-আকাশে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সাগরে পতিত হয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই শুরু হয় ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা, যা তেল শোধনাগারে আঘাত হানে।
এই নগ্ন হামলার পর আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিটি ছিল অত্যন্ত কড়া। এতে বলা হয়েছে, “সংযুক্ত আরব আমিরাত তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এ ধরনের হামলার জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার এবং ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি চললেও আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার এবং আমিরাতের সঙ্গে পুরনো শত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হতে পারে। বিশেষ করে ফুজাইরার মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করা।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরে নজরদারি বাড়িয়েছে আমিরাত ও তার মিত্র দেশগুলো। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ হামলার বিরুদ্ধে কী অবস্থান নেয়।
এই হামলা কেবল আমিরাতের ওপর নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় আঘাত। ইরানের এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
এনএন/ ৫ মে ২০২৬









