মধ্যপ্রাচ্য

আমেরিকা এখন আর পরাশক্তি নয়! হরমুজে ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

তেহরান, ৫ মে – হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির জবাবে এবার সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের যেকোনো চেষ্টাকে ‘পিষে’ দেওয়া হবে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন আক্ষরিক অর্থেই খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল জাভানি দাবি করেন, ট্রাম্প এখন এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের বর্তমান প্রধান সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা। গত ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এখন তিনি গায়ের জোরে বা চাপের মুখে এই জলপথটি খোলার চেষ্টা করছেন।”

জাভানি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন যে, বিশ্ব এখন আর আমেরিকার একক আধিপত্যের অধীনে নেই। তাঁর মতে, আমেরিকা এখন আর কোনো অজেয় পরাশক্তি নয়, বরং তারা ইরানের মতো আরেকটি শক্তিশালী শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হয়, তবে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ইরানের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

ইরানি এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, ওয়াশিংটন তাদের সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে ইরানের শক্তির পরীক্ষা নিতে চাইছে। জাভানি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন আমেরিকা তার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে। ইরানের পানিসীমায় কোনো ধরনের উসকানি বরদাস্ত করা হবে না এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতেই থাকবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। গত কয়েক দিনে এই এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলা এবং সাতটি ইরানি নৌকা ধ্বংসের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। একদিকে ট্রাম্প যখন বলছেন ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবেন, অন্যদিকে ইরান বলছে তারা যেকোনো মূল্যে এই জলপথের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।

২০২৬-এর মে মাসের এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যদি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নামে ইরানি পানিসীমায় প্রবেশের চেষ্টা বাড়ায়, তবে আইআরজিসি-র এই ‘কঠোর জবাব’ কোনো বিধ্বংসী নৌ-যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

ওয়াশিংটনের আধুনিক সমরাস্ত্র বনাম তেহরানের ভৌগোলিক কৌশল—এই দুইয়ের লড়াই এখন কার স্নায়ু কত বেশি শক্তিশালী তার ওপর নির্ভর করছে। বিশ্ব এখন কেবল একটি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো যুদ্ধের দাবানল জ্বালিয়ে দিতে পারে।

এনএন/ ৫ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language