গাজায় পানির ভয়াবহ সংকট: ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ ও মানবিক বিপর্যয়

গাজা, ২৭ এপ্রিল – গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ এবং দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়। বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং যথাযথ স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে প্রতিদিন পানিবাহিত রোগ ও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস জানিয়েছে পরিস্থিতি এখন এতটাই বিপজ্জনক যে পরিচ্ছন্নতার অভাবে অনেক রোগীর ক্ষতস্থানে পোকা জন্মাচ্ছে।
নিরাপদ পানির অভাবে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এমএসএফ এর জরুরি মানবিক বিষয়ক ব্যবস্থাপক লরেলিন ল্যাসের বলেন বিশুদ্ধ পানি ও সাবানের তীব্র সংকট এবং গাদাগাদি করে বসবাসের কারণে মানুষ ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তিনি আরও জানান অনেক ফিলিস্তিনিকে প্রতিদিন এই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয় যে তারা সামান্য পরিমাণ পানি দিয়ে তৃষ্ণা মেটাবেন নাকি রান্না করবেন অথবা ধোয়ার কাজে ব্যবহার করবেন। বিশেষ করে প্রসূতি নারীরা সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে।
ইসরায়েলি হামলায় পানি সরবরাহ এবং মেরামত কাজে নিয়োজিত কর্মীরাও প্রাণ হারাচ্ছেন। গাজার উপকূলীয় পৌরসভাগুলোর পানি সরবরাহ সংস্থার উপ পরিচালক ওমর শাতাত জানিয়েছেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি উত্তর গাজার আল জেইন কূপে কাজ করার সময় একজন পানি প্রকৌশলী নিহত এবং চারজন আহত হন। এর চার দিন আগে উত্তর গাজায় ইউনিসেফের দুই চালককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষের দৈনিক অন্তত ৫০ থেকে ১০০ লিটার পানি প্রয়োজন। তবে ইউনিসেফের তথ্য বলছে গাজায় বর্তমানে দৈনিক গড়ে মাত্র ৭ লিটার পানযোগ্য পানি পাওয়া যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ এই ন্যূনতম পরিমাণ পানি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। সাবান ও ডিটারজেন্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার সন্তানদের ত্বকের সংক্রমণে ভুগতে দেখলেও পানির অভাবে তাদের পরিষ্কার করতে পারছে না। দীর্ঘ এক বছর ধরে নিরাপদ পানি না পেয়ে গাজার বাসিন্দারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এস এম/ ২৭ এপ্রিল ২০২৬









