হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ: আটটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক

তেহরান, ১৫ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুদ্ধের উত্তেজনা তীব্র রূপ নিয়েছে। গত সোমবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে শুরু হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে এ পর্যন্ত ইরান সংশ্লিষ্ট অন্তত আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী প্রতিটি জাহাজ আটকের আগে মার্কিন নৌবাহিনী রেডিও বার্তার মাধ্যমে ট্যাঙ্কারগুলোকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে প্রতিটি জাহাজই নির্দেশ অনুযায়ী পিছু হটেছে এবং কোনো জাহাজেই বলপূর্বক আরোহণের প্রয়োজন পড়েনি। আটককৃত এসব জাহাজের মধ্যে চীনের সাংহাই জুয়ানরুন শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন রিচ স্টারি নামক একটি বড় ট্যাঙ্কারও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে ইরানের বন্দরগুলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ করতে ১৫টির বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া এই মিশনে মেরিন এবং বিশেষ অপারেশন ফোর্সসহ কয়েক হাজার সেনাসদস্য কাজ করছেন। মূলত গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা সফল না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর অবরোধের নির্দেশ দেন। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। আর এই অবরোধ শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশটিতে সব ধরনের সামুদ্রিক আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা মাইনগুলো সরিয়ে ফেলতে দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরান নিজেই তাদের পেতে রাখা মাইনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে।
এস এম/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬









