মধ্যপ্রাচ্য

পিছু হটার সুযোগ নেই: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের

তেহরান, ২৬ মে – পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে লক্ষ্য করে কঠোরতম হুঁশিয়ারি দিলো ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (SNSC) নবনিযুক্ত প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর জনগণের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বার্তায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুর কোনো চাপের মুখেই ইরান এক চুলও পিছু হটবে না।

চলমান শান্তি আলোচনার সমান্তরালে আমেরিকার এই আকস্মিক হামলা এবং তার জবাবে ইরানের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান গুগল ডিসকভার এবং ফেসবুকের ভূ-রাজনৈতিক গ্রুপগুলোতে এখন আলোচনার শীর্ষে।

আইআরজিসি (IRGC)-এর সাবেক এই শীর্ষ কমান্ডার তাঁর প্রথম বার্তায় ইরানি সামরিক বাহিনী এবং দেশের জনগণের প্রশংসা করে বলেন, “সামরিক ক্ষেত্র, কূটনৈতিক অঙ্গন এবং রাস্তায় নেমে আসা আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ—প্রত্যেকে তাদের সাহসী প্রতিরোধের মাধ্যমে শত্রুকে নতজানু করতে বাধ্য করেছে। এই লড়াইয়ে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে পর্দার আড়ালে শান্তি আলোচনা চললেও মাঠপর্যায়ে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনকে ইরান হালকাভাবে নিচ্ছে না। একই সাথে তিনি দেশের জনগণকে অভ্যন্তরীণ বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঐক্য ও সংহতিও এই সংগ্রামের আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র। বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রিয় ইরানকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর-এর এই নিয়োগ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত মার্চ মাসে তিনি এই পদে স্থলাভিষিক্ত হন। তাঁর পূর্বসূরি আলী লারিজানি ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দায়িত্ব পান জোলঘাদর।

তিনি এর আগে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা (ডেপুটি কমান্ডার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির মৃত্যুর পর জোলঘাদর-এর মতো একজন কট্টরপন্থী সামরিক ব্যক্তিত্বকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রধান করা এটাই প্রমাণ করে যে, ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইআরজিসি-র প্রভাব এখন আকাশচুম্বী।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে দুই পক্ষেরই টেবিল টক-এ নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি ‘ডিপ্লোম্যাটিক ট্যাকটিক্স’ বা কৌশল। আমেরিকা হামলার মাধ্যমে দেখাতে চায় তারা এখনো নরম হয়নি, আর ইরান জোলঘাদরের বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চাইছে যে আলোচনার টেবিলে বসলেও তারা আমেরিকার শক্তির সামনে আত্মসমর্পণ করবে না। তবে এই দ্বিমুখী নীতির কারণে যেকোনো মুহূর্তে একটি ছোট ভুল বোঝাবুঝি পুরো পারস্য উপসাগরকে যুদ্ধের আগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারে।

এনএন/ ২৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language