চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে কোরবানির বাজারে বাড়ছে দুম্বার চাহিদা: শৌখিন ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ

চট্রগ্রাম, ২৬ মে – আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মরু অঞ্চলের প্রাণী দুম্বার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ গরু ও ছাগলের পাশাপাশি শৌখিন ক্রেতাদের নজর কাড়ছে বিদেশি জাতের এই পশু। উপজেলার বাড়বকুণ্ড ও ভাটিয়ারী এলাকার বিভিন্ন খামারে প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থী ও ক্রেতারা।

অনেকে শখের বশে দুম্বা দেখতে আসছেন এবং পছন্দের পশুটি আগাম বুকিং দিয়ে রাখছেন। বাড়বকুণ্ডের রূপালী এগ্রো লিমিটেডে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বড় আকৃতির বেশ কিছু দুম্বা পালন করা হচ্ছে। দেখতে ভেড়ার মতো হলেও বিশাল দেহ ও চর্বিযুক্ত লেজের কারণে এগুলো সহজেই নজর কাড়ছে।

এই খামারের প্রায় দুই মণ ওজনের একটি দুম্বার দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। খামার কর্তৃপক্ষ জানায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেহেরপুর থেকে ছয়টি টার্কি জাতের দুম্বা এনে তারা পালন শুরু করেন। বর্তমানে প্রজননের মাধ্যমে খামারে দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়টিতে।

খামারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শওকত আলী জানান তারা মূলত গরুর খামারি হলেও পরীক্ষামূলকভাবে দুম্বা পালন শুরু করেছেন। শুরুতে কিছুটা প্রতিকূলতা থাকলেও বর্তমানে পশুগুলো স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে ভাটিয়ারীর ইউনিক গোট ফার্মের মালিক আদনান চৌধুরী জানান ২০২১ সালে অল্প কয়েকটি দুম্বা নিয়ে শুরু করলেও এখন এটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

গত এক মাসে তিনি ২৫টি দুম্বা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে ৪৩টি দুম্বা রয়েছে যা আগামী বছরের কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের একটি দুম্বা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তিন মাস বয়সী বাচ্চাও প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন ছাগল বা ভেড়ার তুলনায় দুম্বা পালনে লাভের হার অনেক বেশি। প্রতিটি দুম্বার পেছনে মাসে গড়ে আড়াই হাজার টাকা খরচ হয় এবং এগুলোর রোগবালাইও তুলনামূলক কম। সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া জানান দুম্বা এখন বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে।

ঘাসের পাশাপাশি সাধারণ দানাদার খাদ্য খেয়েই এগুলো বেড়ে ওঠে। ছাগল ও ভেড়ার তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছর কোরবানিযোগ্য পশুর পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

এস এম/ ২৬ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language