গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭, হামাসের নিন্দা

গাজা, ১৩ এপ্রিল – গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের হামলায় ছয়জন এবং উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় গুলিতে এক কিশোর নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। রবিবার হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে গণহত্যা ও যুদ্ধ থামেনি।
তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী বুরেইজ শিবিরে সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করে আরেকটি জঘন্য গণহত্যা চালিয়েছে। হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, শনিবার ভোরে বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি পুলিশ স্টেশন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়। এতে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হন। পরবর্তীতে বেইত লাহিয়ায় তথাকথিত হলুদ রেখার বাইরে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানো হলে ১৭ বছর বয়সি আলি হোসাম আল-মাসরি নামের এক কিশোর প্রাণ হারান।
হামাস মুখপাত্র বলেন, এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করে চুক্তির প্রথম ধাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নে বাধ্য করতে হবে। তার মতে, চলমান এই হামলা মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টার প্রতি ইসরায়েলের চরম অবজ্ঞার প্রকাশ। এদিকে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বুরেইজের এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই মিশরের রাজধানী কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সেখানে তারা ইসরায়েলি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন বন্ধ এবং প্রথম ধাপের বাকি অংশ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেবে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েল শত শত বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতি পরবর্তী সময়েই অন্তত ৭৪৯ জন নিহত এবং ২ হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন।
এস এম/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬









