মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় বিষাদ ও অনিশ্চয়তার ঈদ: নেই কোরবানির পশু, বাড়ছে সংকট

জেরুজালেম, ২৭ মে – যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আজ ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হচ্ছে গভীর বিষাদ আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে নেই আগের মতো পশু কোরবানি, শিশুদের নতুন পোশাক কিংবা উৎসবের কোনো আনন্দ উচ্ছ্বাস। যুদ্ধ, ক্ষুধা এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এবারের ঈদ গাজাবাসীর জীবনে কেবলই বেদনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গাজার বাসিন্দা নাদিয়া আবু শামালা জানান যে তিনি বাজারে শুধু ঘুরে দেখার জন্যই যান কারণ তার কিছু কেনার সামর্থ্য নেই। যখনই তিনি কোনো পণ্যের দাম জিজ্ঞেস করেন তখনই মন ভেঙে যায় এবং খালি হাতেই ফিরে আসতে হয়।

গাজার উত্তরের এই বাসিন্দা প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে অবস্থান করছেন। তার মতে যুদ্ধের প্রভাব এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবারের ঈদ আনন্দহীন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও গাজায় এখনো নিয়মিত ইসরাইলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধে গাজার ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অধিকাংশ মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। গাজার সব প্রবেশপথ ইসরাইল নিয়ন্ত্রণ করায় ত্রাণবাহী ট্রাকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ফলে পণ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

৫৯ বছর বয়সি আবু আবদুল্লাহ আল মোসাদা এই যুদ্ধবিরতিকে একটি বড় মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। তবুও তারা শিশুদের জন্য কিছুটা আনন্দ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মক্কায় হজ পালনের সমাপ্তি উপলক্ষে উদ্‌যাপিত এই উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ পশু কোরবানি হলেও গাজায় বাইরে থেকে গবাদিপশু প্রবেশ করতে পারছে না।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে যুদ্ধের আগের তুলনায় এখন মাত্র এক চতুর্থাংশ ভেড়া অবশিষ্ট আছে। সরবরাহ সীমিত হওয়া এবং পশুপালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর দাম নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের আগে যে পশু ১ হাজার শেকেলে বিক্রি হতো এখন তার দাম ১১ হাজার থেকে ১৫ হাজার শেকেলের মধ্যে।

এই আকাশচুম্বী দাম শুনে গাজার সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে পড়েছেন। অনেকে সন্তানদের জন্য এক কেজি মাংস কেনার সামর্থ্যও হারিয়েছেন।

অন্যদিকে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে ঘরে মিষ্টি বা বিস্কুট তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে কিছু পরিবার অস্থায়ী আশ্রয়ের নিচে ঈদের বিশেষ বিস্কুট তৈরির চেষ্টা করছে।

দেইর আল বালাহর তাবু থেকে বাসিন্দারা কেবল ভালো দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাদের জীবনে এখন আনন্দের পরিবর্তে কেবল দুশ্চিন্তা, ভয় আর ক্লান্তি অবশিষ্ট রয়েছে।

এনএন/ ২৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language