জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পর নেতানিয়াহুর দুর্নীতির বিচার শুরু

তেল আবিব, ১০ এপ্রিল – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী রবিবার থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আদালতের একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। তবে গত বুধবার সেই জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এর ঠিক পরের দিনই প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিচার শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানায় আদালত।
ইসরায়েলি আদালতের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার এবং বিচারব্যবস্থা সচল হওয়ার কারণে এখন থেকে যথারীতি শুনানি চলবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় রবিবার থেকে বুধবারের মধ্যে নেতানিয়াহুর এই দুর্নীতির মামলার শুনানি হতে পারে। ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা তদন্তের পর ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
তবে শুরু থেকেই তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০২০ সালে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও বিভিন্ন কারণে তা বারবার পিছিয়ে যায়। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের প্রতি নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান। সম্প্রতি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলে জারি করা জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে তেল আবিবসহ অন্যান্য শহরে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত তিনটার পর থেকে নতুন করে কোনো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলার কারণে এই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
উল্লেখ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং দেশটির বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যেই তারা এই যৌথ হামলা চালিয়েছে।
এস এম/ ১০ এপ্রিল ২০২৬









